চাণক্য নীতি: জীবনকে আরও সহজ করে দেবে

You are currently viewing চাণক্য নীতি: জীবনকে আরও সহজ করে দেবে
চাণক্য নীতি (chanakya niti in bengali )

আজ আমরা আপনাদের সামনে চাণক্যের লেখা কিছু “চাণক্য নীতি” তুলে ধরার চেষ্টা করবো। আর আপনি যদি এই সমস্ত নীতি গুলি অনুসরন করতে পারেন তাহলে আপনার জীবন অনেক সহজ হয়ে যাবে। চাণক্য ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন শিক্ষক, দার্শনিক এবং অর্থনীতিবিদ। তিনি কৌটিল্য এবং বিষ্ণুগুপ্ত নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক ছিলেন।

রাষ্ট্র-বিষয়ক বিষয়ে তার অসীম জ্ঞান ছিল। তাই তাকে ভারতের মেকিয়াভেলি বলা হয়। চাণক্যের লেখা একটি জনপ্রিয় বইয়ের নাম- অর্থশাস্ত্র। তিনি মৌর্য্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের প্রধান রাজ-উপদেষ্টা ছিলেন। তাহলে চলুন দেরী না করে “চাণক্য নীতি” গুলি পড়া শুরু করা যাক।

জীবন নিয়ে চাণক্য নীতি

জীবন নিয়ে যে সমস্ত চাণক্য নীতি আছে তার মধ্য থেকে বিখ্যাত কিছু নীতি নীচে দেওয়া হল-

1. “একজন মানুষের খুব বেশী সৎ হওয়া উচিত নয়। যেমন- বাগানের সোজা গাছ গুলিকে সবার আগে কাটা হয় ঠিক তেমনি বেশী সৎ সম্পন্ন মানুষদের বিপদ সবার আগে আসে।” – চাণক্য

2. “উপকারী ব্যক্তির সাথে উপকার, হিংস্য ব্যক্তির সাথে প্রতিহিংসা এবং দুষ্ট ব্যক্তির সাথে দুষ্ট ব্যবহার করা উচিত। এতে কোনো দোষ নেই।” – চাণক্য

3. “সত্য অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ধর্ম নেই, মিথ্যা অপেক্ষা বড়ো পাপ নেই। ধর্মের অবস্থান সত্যের উপর, তাই সত্যকে ত্যাগ করা উচিত নয়।” – চাণক্য

“দারিদ্র্য, রোগ, দুঃখ, বন্ধন এবং বিপদ- সব কিছুই মানুষের নিজেরই অপরাধরূপ বৃক্ষের ফল।” – চাণক্য

4. “যতক্ষণ আশা আছে ততক্ষণ প্রযন্ত রুগীর চিকিৎসা করে যাওয়া উচিত। কারণ কার ভাগ্যে কি আছে বলা যায় না।” – চাণক্য

5. “মনের বাসনাকে দূরীভূত করা উচিত নয়। এই বাসনাগুলোকে গানের গুঞ্জনের মতো কাজে লাগানো উচিত।” – চাণক্য

6. “মহৎ ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকলে ভালো জিনিসের সন্ধান পাওয়া যায়। আর অধমের সংস্পর্শে থাকলে কেবল বাজে জিনিস পাওয়া যায়।” – চাণক্য

7. “পাঁচজনের সঙ্গে বাস করা উচিত। পাঁচজনের সঙ্গে হাঁটা উচিত। পাঁচজনের সঙ্গে মিলেমিশে খাওয়া উচিত। পাঁচজনের সাথে থাকলে দুঃখের লাঘব হয়।” – চাণক্য

8. “মহান ব্যক্তিরা বিপদের সময় বিহ্বল বা কাতর হয়ে পড়েন না।” – চাণক্য

“যে যতোই শক্তিশালী হোক না কেনো ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কারোর নেই।” – চাণক্য

9. “ধনসম্পদ দান করিলে গৌরব পাওয়া যায়, সঞ্চয়ের মাধ্যমে নয়। জলদানকারি মেঘের স্থান হলো উচুঁতে কিন্তু জলসঞ্চয়কারি সুমুদ্রের স্থান নীচে।” – চাণক্য

10. “কর্কশ কথা অগ্নিদাহের চেয়েও ভয়ঙ্কর।” – চাণক্য

11. “খেয়ে যার হজম হয়, ব্যাধি তার দূরে রয়।” – চাণক্য

12. “গুণবানকে আশ্রয় দিলে নির্গুণও গুণী হয়।” – চাণক্য

13. “একটি শক্তিশালী মন কে কেউ হারাতে পারেনা।” – চাণক্য

“উৎসবে, বিপদে, দুর্ভিক্ষে, শত্রুর সঙ্গে সংগ্রামকালে, রাজদ্বারে এবং শ্মশানে যে সঙ্গে থাকে, সে-ই প্রকৃত বন্ধু।” – চাণক্য

14. “গুণহীন মানুষ যদি উচ্চ বংশেও জন্মায় তাতে কিছু আসে যায় না। নীচকুলে জন্মেও যদি কেউ শাস্ত্রজ্ঞ হয়, তবে দেবতারাও তাঁকে সম্মান করেন।” – চাণক্য

15. “যারা রূপযৌবনসম্পন্ন এবং উচ্চকুলজাত হয়েও বিদ্যাহীন, তাঁরা সুবাসহীন পলাশ ফুলের মত বেমানান।” – চাণক্য

16. “বিরাট পশুপালের মাঝেও শাবক তার মাকে খুঁজে পায়। অনুরূপ যে কাজ করে অর্থ সবসময় তাকেই অনুসরণ করে।” – চাণক্য

17. “মন খাঁটি হলে পবিত্র স্থানে গমন অর্থহীন।” – চাণক্য

18. “কৃপণ ব্যক্তি কখনো ধন-সম্পত্তি ভোগ করতে জানে না। কুকুর আকন্ঠ জলে ডুবে থেকেও জিভের দ্বরা চেটে চেটে জল পান করে।” – চাণক্য

“ঈশ্বর কোনো মূর্তিতে নেই। আপনার অনুভূতি হলো আপনার ঈশ্বর। আর আত্মা হলো আপনার মন্দির।” – চাণক্য

19. “যে ব্যক্তির জন্মের দ্বারা বংশের নাম উজ্জ্বল হয় সেই ব্যাক্তির জন্ম সার্থক।” – চাণক্য

20. “যার ভাষা সরস, যার কর্ম শ্রমযুক্ত, যার সম্পদ দান কার্যে নিযুক্ত তার জীবন সফল।” – চাণক্য

21. “যেমন কর্ম করবে তেমন ফল পাবে। কোনো ভগবান তোমার কপালের দুঃখ দূর করতে পারবে না।” – চাণক্য

22. “স্বভাবত কেউই আমাদের বন্ধু কিংবা শত্রু হয়না, একমাত্র কাজের দ্বারাই মানুষ আমাদের বন্ধু কিংবা শত্রু হয়।” – চাণক্য

“প্রতিটি বন্ধুত্বের পিছনে কিছু না কিছু স্বার্থ থাকে। স্বার্থ ছাড়া কোনো বন্ধুত্ব হয় না। আর এটি একটি তিক্ত সত্য।” – চাণক্য

23. “একটি দোষ বহু গুণকেও গ্রাস করে।” – চাণক্য

24. “ধর্মের চেয়ে ব্যবহারই বড়।” – চাণক্য

25. “সুবেশভূষিত মূর্খকে দূর থেকেই দেখতে ভালো। যতক্ষণ সে কথা না বলে ততক্ষণই তার শোভা। কথা বললেই মূর্খতা প্রকাশ পায়।” – চাণক্য

26. “যে অলস, অলব্ধ-লাভ তার হয় না।” – চাণক্য

“একজন মানুষ তার মৃত্যুর দ্বারা মহান হয়, জন্মের দ্বারা নয়।” – চাণক্য

27. “মিত ভোজনেই স্বাস্থ্যলাভ হয়।” – চাণক্য

28. “ভোগবাসনায় বুদ্ধি আচ্ছন্ন হয়।” – চাণক্য

29. “অহংকারের মত শত্রু নেই।” – চাণক্য

30. “মানুষ একা জন্ম নেয়, একা একাই তাকে পাপ পুণ্যের ফল ভোগ করতে হয়। সে একা একাই নানা ধরণের কষ্ট ভোগ করে। তাকে একা একাই নরকের অন্ধকারে থেকে দুঃখ কষ্ট ভোগ করতে হয়। আবার একাই তার মোক্ষ প্রাপ্তি ঘটে।” – চাণক্য

চাণক্যের উপদেশমূলক নীতি

নীচে দেওয়া উপদেশমূলক চাণক্য নীতি গুলি মেনে চলার চেষ্টা করুন। তাহলে দেখবেন জীবন কত সহজ হয়ে গিয়েছে-

1. “বিষ থেকে সুধা, নোংরা স্থান থেকে সোনা, নীচ কারোর থেকে জ্ঞান এবং নিচু পরিবার থেকে সুভলক্ষণা স্ত্রী- এসব গ্রহণ করা সঙ্গত।” – চাণক্য

2. “কাজের পরিকল্পনা মনে থাকবে তা মুখে যেনো প্রকাশ না পায়। কেননা, যে কাজের কথা অন্য লোক আগে জেনে ফেলে সেই কাজে সাফল্য আসে না।” – চাণক্য

3. “হাতি থেকে একহাজার হাত দূরে, ঘোড়া থেকে একশ হাত দূরে, শৃঙ্গধারী প্রাণী থেকে দশহাত দূরে থাকবে। অনুরূপ দুর্জনের কাছ থেকেও যথাসম্ভব দূরে থাকবে।” – চাণক্য

4. “ভয় যতক্ষণ না আসে, ততক্ষণই ভয় পাওয়া উচিত নয়। যদি শেষ পর্যন্ত ভয় এসে যায় তাহলে তার যথাযথ প্রতিকার করা কর্তব্য।” – চাণক্য

“সাপ, রাজা, সিংহ, বোলতা, বাচ্চা, অন্যের কুকুর এবং মূর্খ – এই সাতজনকে ঘুম থেকে জাগানো উচিত নয়।” – চাণক্য

5. “অগ্নি, শত্রু ও রোগব্যাধি সম্পূর্ণ নির্মূল করা উচিত। নাহলে অন্যথায় তা বাড়তেই থাকবে।” – চাণক্য

6. “দুর্জন ব্যক্তি বিদ্যান হলেও যেকোনো মূল্যে তাকে এড়িয়ে চলা উচিত। কারন মণিভূষিত বিষাক্ত সাপও অধিক ভয়ঙ্কর হয়ে থাকে।” – চাণক্য

7. “ভালোভাবে দেখে পা ফেলা উচিত। কাপড় দিয়ে ছেঁকে জল প্রাণ করা উচিত। সত্যকথা বলা উচিত। মন যেমন চাইবে তেমন কাজ করা উচিত।” – চাণক্য

8. “যেখানে আপনার কোনো বন্ধু নেই অথবা যেখান থেকে আপনি কোনো জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন না, এইরকম জায়গায় মানুষের একদিনও থাকা উচিত নয়।” – চাণক্য

“যার অধিকারে যতটুকু যা আছে, তার সবকিছুই বরং সৎ উদ্দেশ্যে ব্যয় করা উচিত। কারণ মৃত্যুকালে, কেউই তার সম্পদ সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারে না।” – চাণক্য

9. “বিপদ আসার আগে বিপদ থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজে বের করা উচিত। ঘরে আগুন লাগলে কুয়ো খুলে কোনো লাভ হয় না।” – চাণক্য

10. “যে ব্যক্তি সাক্ষাতে কাজের কথা বলে কিন্তু অসাক্ষাতে কাজের ক্ষতি করে, সেরকম মুখে মধু অন্তরে বিষ বন্ধুকে ত্যাগ করা উচিত।” – চাণক্য

11. “শত্রুর প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করা উচিত নয়। তাকে সর্বদা বিপদজনক মনে করা প্রয়োজন।” – চাণক্য

12. “ক্ষমা, দয়া, প্রেম, সরলতা, বিনয় এবং সেবার দ্বারা সমস্ত জগৎ তাকে বশীভূত করবে।” – চাণক্য

“দুর্মূল্য জিনিসগুলি সাধারণত আমাদের থেকে অনেক দূরে থাকে। তাই সেগুলি পাওয়ার জন্য আমাদেরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।” – চাণক্য

13. “মুক্তি পেতে চাইলে বিষয় বাসনা ত্যাগ করতে হবে। ক্ষমা, সরলতা, দয়া, শুচিতা এবং সত্যকে অমৃতের মতো পান করতে হবে।” – চাণক্য

14. “পরের স্ত্রী, পরের জিনিস, পরনিন্দা, অন্যকে উপহাস এবং গুরুজনের সামনে চপলতা ত্যাগ করবে।” – চাণক্য

15. “লোভীকে টাকা দিয়ে, কুদ্রকে হাত জোড় করে, মূর্খকে তার মন যুগিয়ে এবং পণ্ডিতকে যথার্থ কথা বলে বশীভূত করবে।” – চাণক্য

16. “দুই ব্রাম্ভনের মাঝে, প্রভু ও ভৃতের মাঝে, স্বামী স্ত্রীর মাঝে এবং ষাঁড় এবং লাওনের মাঝে কখনই যাওয়া উচিত নয়।” – চাণক্য

17. “আগুন, গুরু, ব্রাম্ভন, কুমারী কন্যা, বৃদ্ধ এবং বাচ্চা এদেরকে পা দিয়ে স্পর্শ করা উচিত নয়।” – চাণক্য

“তিনটি বিষয়ে সন্তোষ বিধেয়: নিজের পত্নীতে, ভোজনে এবং ধনে। কিন্তু অধ্যয়ন, জপ, আর দান এই তিন বিষয়ে যেন কোনও সন্তোষ না থাকে।” – চাণক্য

18. “ভালো করে চিন্তা করে কথা বলা উচিত। হঠাৎ করেই কিছু বলা ঠিক নয়।” – চাণক্য

19. “গৃহে যার মা নেই, স্ত্রী যার দুর্মুখ তার বনে যাওয়াই ভালো। কারণ তার কাছে বন আর গৃহে কোনও তফাৎ নেই।” – চাণক্য

20. “যে রাজা শত্রুর গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা করতে পারে না এবং শুধু অভিযোগ করে যে তার পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, তাকে সিংহাসনচ্যুত করা উচিত।” – চাণক্য

21. “ভবিষ্যতে বিপদ আসতেই পারে, সেই কথা মাথায় রেখে প্রত্যেকটা মানুষেরই অর্থ সঞ্চয় করা উচিত।” – চাণক্য

22. “অন্তঃসার শূন্যদের উপদেশ দিয়ে কিছু ফল হয় না, মলয়-পর্বতের সংসর্গে বাঁশ চন্দনে পরিণত হয় না।” – চাণক্য

“অবহেলায় কর্মনাশ হয়, যথেচ্ছ ভোজনে কুলনাশ হয়, যাঞ্চায় সম্মান-নাশ হয়, দারিদ্র্যে বুদ্ধিনাশ হয়।” – চাণক্য

23. “বাল বৃদ্ধ যুবা যেই হোক না অতিথি, গুরুজ্ঞানে তারই সেবা গৃহস্থের রীতি।” – চাণক্য

24. “আপনার থেকে উচ্চ পর্যায়ের অথবা আপনার থেকে নিম্ন পর্যায়ের লোকেদের সাথে কখনো বন্ধুত্ব করবেন না। কারণ এমন ধরনের বন্ধুত্ব আপনাকে কখনো সুখ দিতে পারবে না।” – চাণক্য

25. “বন্ধুকে খুব বিশ্বাস করে নিজের দোষ গুলিকে কখনো বলা উচিত নয়। কারণ বন্ধু যদি একবার রেগে যায় তাহলে আপনার দোষগুলিকে সকলের সামনে প্রকাশ করে দেবে।” – চাণক্য

চাণক্যের শিক্ষামূলক নীতি

নীচে কিছু শিক্ষামূলক চাণক্য নীতি দেওয়া হল। যেগুলি থেকে আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন-

1. “জীবনের একটি মুহূর্তও যদি বৃথা ব্যয় হয় তাহলে কোটি কোটি সর্ণমুদ্রার বিনিময়েও টা ফিরে পাওয়া যায় না। সুতরাং বৃথা সময় নষ্ট করার থেকে আর বেশী কি ক্ষতি হতে পারে?” – চাণক্য

2. “একজন শিক্ষার্থীর কখনই কোনো মূর্খ ব্যক্তির সাথে বেশি কথাবার্তা বলা উচিত নয়, কারন একজন মূর্খ ব্যক্তির জ্ঞান খুবই সামান্য থাকে একজন বিদ্যান ব্যক্তির তুলনায়।” – চাণক্য

“পরস্ত্রীকে যে মায়ের মত দেখে, অন্যের জিনিসকে যে মূল্যহীন মনে করে এবং সকল জীবকে যে নিজের মতো মনে করে, সেই যথার্থ জ্ঞানী।” – চাণক্য

3. “ধন দান করলে হ্রাস প্রায় কিন্তু বিদ্যা দান করলে বেড়ে যায়। তাই ধন অপেক্ষা বিদ্যা শ্রেষ্ঠ।” – চাণক্য

4. “চঞ্চল মন যেকোনো বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করার পিছনে সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।” – চাণক্য

“একজন শিক্ষার্থীর কাম বাসনা থেকে সর্বদা দূরে থাকা উচিত। কারন কামের মায়াজালে জড়িয়ে গেলে শিক্ষার্থী জ্ঞান ও অধ্যয়নের সময় মনোনিবেশ করতে পারেনা এবং মন সর্বদা কাম বাসনার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে।” – চাণক্য

5. “গুরু শিষ্যকে যদি একটি অক্ষরও শিক্ষা দেন, তবে পৃথিবীতে এমন কোনও জিনিস নেই, যা দিয়ে সেই শিষ্য গুরুর ঋণ শোধ করতে পারে।” – চাণক্য

6. “গুরুর অপবাদ বা নিন্দা যেখানে হতে থাকে, সেখানে হয় নিজের কান দুটি বন্ধ রাখতে হয় অথবা সেই স্থান পরিত্যাগ করতে হয়।” – চাণক্য

7. “যারা পরিশ্রমী, তাদের জন্যে কোনকিছুই জয় করা অসাধ্য কিছু নয়। শিক্ষিত কোন ব্যক্তির জন্যে কোন দেশই বিদেশ নয়। মিষ্টভাষীদের কোন শত্রু নেই।” – চাণক্য

8. “রাতের ভূষণ চাঁদ, নারীর ভূষণ পতি, পৃথিবীর ভূষণ রাজা, কিন্তু বিদ্যা সবার ভূষণ।” – চাণক্য

9. “অত্যন্ত অহংকারের ফলে দশানন রাবণের লঙ্কা রাজ্য বিনিষ্ট হয়েছিল। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং অভিমানের জন্য কৌরবগণ ধ্বংস হয়েছিলেন। অতিরিক্ত দানের ফলে বালিরাজ পাতালে বন্দী হয়েছিলেন। যে কোনো জিনিস অতিরিক্ত করলে অবশ্যই অনর্থ ঘটবে।” – চাণক্য

“বইয়ে থাকা বিদ্যা, পরের হাতে থাকা ধন একইরকম। প্রয়োজন কালে তা বিদ্যাই নয়, ধনই নয়।” – চাণক্য

10. “নতুন বস্ত্র, নতুন ছাতা, নতুন গৃহ, নতুন স্ত্রী- সবকিছু নতুন হলে ভালো। কিন্তু চাকর এবং চাল যতো পুরাতন হবে ততোই ভালো।” – চাণক্য

11. “যে ক্ষমা করতে পারে তাকে কেউ ক্ষতি করতে পারে না। যেমন- ঘাস বিহীন স্থানে আগুন পড়লে তা এমনিতেই নিভে যায়।” – চাণক্য

12. “অধমেরা ধন চায়, মধ্যমেরা ধন ও মান চায়। উত্তমেরা শুধু মান চায়। মানই মহতের ধন।” – চাণক্য

“যারা কর্ম করে যায় তাদের কখনো দারিদ্রতা আসেনা। যারা জপতপ করেন তাদের পাপের ভাগী হতে হয়না। যারা চুপচাপ তাদের ঝগড়ার ভয় থাকে না।” – চাণক্য

13. “শাস্ত্র অনন্ত, বিদ্যাও প্রচুর। সময় অল্প অথচ বিঘ্ন অনেক। তাই যা সারভূত তারই চর্চা করা উচিত। হাঁস যেমন জল-মিশ্রিত দুধ থেকে শুধু দুধটুকুই তুলে নেয়, তেমনি।” – চাণক্য

14. “অতিরিক্ত অহংকার, তিক্ত বাণী, অসৎ ব্যাক্তির সঙ্গ লাভ এবং নিন্দনীয় ব্যক্তির সেবা- যে মানুষ নড়ক লাভ করবে এগুলি তার দেহের বা স্বভাবের লক্ষণ।” – চাণক্য

15. “এই ব্যাক্তি আমার আপন এই ব্যাক্তি আমার পর- হীনচেতনা ব্যক্তিরা এমনই চিন্তা করে থাকেন। কিন্তু উদারচেতা মানুষের কাছে সমস্ত জগৎটা আত্মীয়।” – চাণক্য

“উত্তম ব্যক্তির সঙ্গ, পণ্ডিতদের সঙ্গে সদ আলোচনা এবং নির্লোভ এর সঙ্গে বন্ধুত্ব যারা করেন, তারা কখনো ক্লান্ত হয় না।” – চাণক্য

16. “বালক বলে তার উপদেশ খারাপ এবং বৃদ্ধ বলে তার উপদেশ ভালো এমন ধারণা ঠিক নয়।” – চাণক্য

17. “নানাভাবে শিক্ষা পেলেও দুর্জন সাধু হয় না। নিমগাছ যেমন আমূল জলসিক্ত করে কিংবা দুধে ভিজিয়ে রাখলেও কখনও মধুর হয়না।” – চাণক্য

18. “বিদ্যাবত্তা ও রাজপদ এ-দুটি কখনও সমান হয় না। রাজা কেবল নিজদেশেই সমাদৃত, বিদ্বান সর্বত্র সমাদৃত।” – চাণক্য

“যদি পশ্চিম দিকেও সূর্যোদয় হয়, যদি পর্বত শিখরেও পদ্মফুল ফোটে, যদি মরু পর্বত অন্যত্রও গমন করে, তবুও সৎ ব্যক্তি তার কথার নড়চড় হতে দেননা।” – চাণক্য

19. “অভ্যাসহীন বিদ্যা, অজীর্ণে ভোজন, দরিদ্রের সভায় কালক্ষেপ এবং বৃদ্ধের তরুণী ভার্যা বিষতুল্য।” – চাণক্য

20. “অন্নদানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ দান হয়না এবং ভবিষ্যতেও হবে না। বিশ্ব অন্নের দ্বারা পালিত হয়।” – চাণক্য

21. “শরীরে তেল লাগানোর পরে, চিতার ধোঁয়া গায়ে লাগার পরে, চুল কাটানোর পরে মানুষ যতক্ষণ না প্রযন্ত স্নান করছে ততক্ষণ প্রযন্ত সে চণ্ডাল থাকে।” – চাণক্য

22. “বিদ্যার চেয়ে বন্ধু নাই, ব্যাধির চেয়ে শত্রু নাই। সন্তানের চেয়ে স্নেহপাত্র নাই, দৈবের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বল নাই।” – চাণক্য

“সাধুব্যক্তির সান্নিধ্যে এলে মানুষের গৌরব অনেক বৃদ্ধি পায়। ঠিক একইভাবে দেবতার সংসর্গে এলে ফুলের সৌন্দর্য সুষমা বুঝি শতগুণে বৃদ্ধি পায়।” – চাণক্য

23. “অন্নের থেকে দশ গুন বেশী শক্তি আছে আটার মধ্যে। আটার থেকে দশগুণ বেশী শক্তি আছে দুধে। দুধের থেকে আট গুণ বেশী শক্তি আছে মাংসে। মাংসের থেকে দশ গুণ বেশী শক্তি আছে ঘি-য়ের মধ্যে।” – চাণক্য

24. “বিদ্যার্থীদের পক্ষে এটি অত্যন্ত আবশ্যক যে তারা আটটি জিনিস পরিত্যাগ করবে- কাম, ক্রোধ, লোভ, সুস্বাদু পদার্থের ভক্ষণের ইচ্ছা, শৃঙ্গার, মনোরঞ্জন, বেশী ঘুমানো অথবা কর্তব্য কর্মে অবহেলা করা।” – চাণক্য

সন্তান নিয়ে চাণক্য নীতি

নীচে কিছু সন্তান সম্পর্কিত চাণক্য নীতি দেওয়া হল। যেগুলি সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করে তোলার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে-

1. “পাঁচ বছর বয়স অবধি পুত্রদের লালন করবে, দশ বছর অবধি তাদের চালনা করবে, ষোলো বছরে পড়লে তাদের সঙ্গে বন্ধুর মত আচরণ করবে।” – চাণক্য

2. “পুত্রকে যারা পড়ান না, সেই পিতামাতা তার শত্রু। হাঁসদের মধ্যে বক যেমন শোভা পায় না, সভার মধ্যে সেই মূর্খও তেমনি শোভা পায় না।” – চাণক্য

“একটিমাত্র পুষ্পিত সুগন্ধ বৃক্ষে যেমন সমস্ত বন সুবাসিত হয়, তেমনি একটি সুপুত্রের দ্বারা সমস্ত কুল ধন্য হয়।” – চাণক্য

3. “আদর দেওয়ার অনেক দোষ, শাসন করার অনেক গুণ, তাই পুত্র ও শিষ্যকে শাসন করাই দরকার, আদর দেওয়া নয়।” – চাণক্য

4. “পুত্র যদি হয় গুণবান, পিতামাতার কাছে তা স্বর্গ সমান।” – চাণক্য

“একটি কুবৃক্ষের কোটরের আগুন থেকে যেমন সমস্ত বন ভস্মীভূত হয়, তেমনি একটি কুপুত্রের দ্বারাও বংশ দগ্ধ হয়।” – চাণক্য

5. “গাভী দুধ দেয় না, গর্ভ ধারণও করে না, সে গাভী দিয়ে কী হবে! যে বিদ্বান ও ভক্তিমান নয়, সে পুত্র দিয়ে কী হবে।” – চাণক্য

6. “একশত মূর্খ পুত্রের চেয়ে একটি গুণী পুত্র বরং ভালো। একটি চন্দ্রই অন্ধকার দূর করে, সকল তারা মিলেও তা পারে না।” – চাণক্য

“চাণক্য নীতি” গুলি আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন এবং ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।।

Leave a Reply