ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উক্তি | বিদ্যাসাগরের অমূল্য কিছু বাণী

You are currently viewing ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উক্তি | বিদ্যাসাগরের অমূল্য কিছু বাণী
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উক্তি এবং বানী

আজ আমরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উক্তি এবং বানী গুলি সম্পর্কে জানবো। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন পণ্ডিত, লেখক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, জনহিতৈষী এবং সমাজ সংস্কারক। তিনি ছিলেন বাঙালি নবজাগরণের প্রধান স্তম্ভ।

বাংলা গদ্যের আধুনিকীকরণ ও সরলীকরণ এবং বাংলা বর্ণমালাকে ন্যায়সঙ্গত করে তুলতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন। বিদ্যাসাগর বিধবাবিবাহ, বাল্যবিবাহ এবং বহুবিবাহের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। তার আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার বিধবা বিবাহ আইন পাস করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

এছাড়াও তিনি ভারতে নারী শিক্ষা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নিজ প্রচেষ্টায় এবং নিজ অর্থ ব্যয়ে অনেক মহিলা স্কুল স্থাপন করেছিলেন। যেগুলি আজও বর্তমান।

দর্শন ও সংস্কৃত বিষয়ে পাণ্ডিতের কারণে তিনি “বিদ্যাসাগর” উপাধি পেয়েছিলেন। বিদ্যাসাগর শব্দের সংস্কৃত অর্থ হল জ্ঞানের সাগর। ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বইয়ের নাম হল- বর্ণপরিচয়, ব্যাকরণ কৌমুদী, শকুন্তলা, বেতাল পঞ্চবিংশতি এবং জীবনচরিত।

বিখ্যাত কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সম্পর্কে বলেছিলেন যে-

“দোয়া নহে, বিদ্যা নহে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের চরিত্রে প্রধান গৌরব তাঁহার অজেয় পৌরুষ, তাঁহার অক্ষয় মনুষ্যত্ব।”

তাহলে চলুন আর দেরী না করে বিদ্যাসাগরের বাণী এবং উক্তি গুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উক্তি এবং বাণী

বিদ্যাসাগরের সেরা কিছু উক্তি এবং বাণী হল-

1. “যাহার যে অবস্থা, সে যদি তাহাতেই সন্তুষ্ট থাকে, তাহা হইলে তাহাকে কাহারও নিকট অপদস্থ ও অপমানিত হইতে হয় না।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

2. “পৃথিবীতে সফল ও সুখী মানুষ তারাই যাদের মধ্যে বিনয় আছে এবং বিনয় আসে শুধুমাত্র শেখার মাধ্যমে।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

3. “বিদ্যা হল সবচেয়ে মূল্যবান ধন; এর আগমনে শুধু নিজের নয়, সমগ্র সমাজের কল্যাণ হয়।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

4. পরের উপকার করতে গেলে মাঝে মধ্যে ঠকতে হয়। ঠকানোর চেয়ে ঠকা ভালো।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

5. “মানুষ যতো বড়ই হোক না কেন, তার অতীত মনে রাখা উচিত।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগরের-বানী

6. “যে ব্যক্তি অন্যের কাজে আসে না, সে আসলে মানুষ নয়।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

7. “একজন মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ হওয়া উচিত অন্যের কল্যাণ এবং সহযোগিতা, যা একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠন করে।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

8. “নিজের স্বার্থের আগে সমাজ ও দেশের স্বার্থ দেখাই একজন বিজ্ঞ নাগরিকের ধর্ম।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

9. “মাতা পিতার সেবাই শ্রেষ্ঠ পূজা এবং সন্তানের সর্ব প্রধান ও পবিত্রতম কর্তব্য।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগরের-অমূল্য-কিছু-বাণী

10. “সমাজের মঙ্গলের নিমিত্ত যাহা উচিত বা আবশ্যক মনে হইবে, তাহা করিবে। লোকের বা কুটুম্বের ভয়ে কদাচ সংকুচিত হইবে না।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

11. “যারা নাস্তিক তাদের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঈশ্বরে বিশ্বাস করা উচিত, এতেই তাদের স্বার্থ।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

12. “অন্যের কল্যাণ ছাড়া আর কোন মহৎ কাজ ও ধর্ম নেই।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

13. “যার নিজস্ব বিবেক নেই, সে হালকা বাতাসেও নড়ে।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

উক্তি-বানী-ঈশ্বরচন্দ্র-বিদ্যাসাগর

14. “মানুষকে সমস্ত প্রাণীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলা হয়, কারণ তার আত্ম-বৈষম্য এবং আত্ম-জ্ঞান রয়েছে।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

15. “যে ব্যক্তি সংযমের সাথে নিয়মানুবর্তিতা করে এবং তার জ্ঞান দ্বারা সকলকে দান করে, শুধু ইহকালেই নয় পরকালেও তিনি পূজিত হন।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

আরও পড়ুন- 50 টি মহাত্মা গান্ধীর উক্তি এবং বাণী | গান্ধীজীর সেরা কিছু শিক্ষামূলক উক্তি

16. “আপনি যদি সফল এবং মর্যাদাবান হতে চান, তাহলে মাথা নত করতে শিখুন। কারণ যারা মাথা নত করে না, সময়ের বাতাস তাদের মাথা নত করে দিয়ে যায়।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

17. “ফলবতী বৃক্ষ নত হয়, নত হয় গুণীজন, নত হয় না শুধু শুষ্ক বৃক্ষ আর মূর্খরা।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ishwar-chandra- vidyasagar-quotation-in-bengali

18. “যদি একজন মানুষ বড় হতে চায়, তবে তার ছোট কাজও করা উচিত। কারণ শুধুমাত্র আত্মনির্ভরশীল-রাই সর্বোত্তম।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

19. “চোখের সামনে মানুষ অনাহারে মরবে; ব্যাধি, জরা, মহামারীতে উজাড় হয়ে যাবে। আর দেশের মানুষ চোখ বুজে ‘ভগবান’ ‘ভগবান’ করবে-এমন ভগবৎ প্রেম আমার নেই: আমার ভগবান আছে মাটির পৃথিবীতে; স্বর্গ চাই না, মোক্ষ চাই না, বারে বারে ফিরে আসি যেন এই মর্ত্য বাংলায়।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

20. “নারী জাতি এখনও দ্বিতীয় শ্রেনীর মানুষ হিসাবে বিবেচিত। এমনটি হলে সমাজের সার্বিক উন্নতি কখনও সম্ভব হবে না।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

21. “সংযম বিচক্ষণতা দেয়, ধ্যান দেয় একাগ্রতা। শান্তি, তৃপ্তি এবং পরোপকারীতা দেয় মানবতা।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

আরও পড়ুন- 40 টি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর উক্তি এবং বাণী

22. “শিক্ষকের দায়িত্বপূর্ণ কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে পারে, এমন একদল লোক সৃষ্টি করিতে হইবে; তাহা হইলেই আমাদের উদ্দেশ্য সফল হইবে। মাতৃভাষায় সম্পূর্ণ দখল, প্রয়োজনীয় বহুবিধ তথ্যে যথেষ্ট জ্ঞান, দেশের কুসংস্কারের কবল হইতে মুক্তি শিক্ষকদের এই গুণগুলি থাকা চাই।” – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উক্তি এবং বাণী গুলো কেমন লাগলো তা আমাদের কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন এবং ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন, যাতে করে তারাও এই মহান মানুষটির বাণী গুলি সম্পর্কে জানতে পারে।

Leave a Reply